About Us

Home / About Us

বঙ্গদেশে যখন ব্রাহ্মণ্যবাদের কদাচার সমাজের একশ্রেণীর মানুষকে পশুর চেয়েও  অবমূল্যায়ণ করে , শাস্ত্রাদির দোহাই দিয়ে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী , অকর্মণ্য , সুযোগসন্ধানী পরশ্রমজীবী মানুষ উৎপাদক শ্রেণীর মানুষকে শোষণ করে চলছিল , সেই সময় শোষণ মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হলেন হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুর । ধর্মহারা মানুষকে প্রতিবাদের ধর্ম হিসাবে দিলেন মহান মতুয়া ধর্ম । মতুয়া ধর্ম-দর্শনের মাধ্যমে পতিত শ্রেণীর মানুষকে দিলেন আত্মমর্যাদায়, আত্মসম্মানে বলীয়ান হওয়ার বার্তা । যা থেকে অন্ত্যজ সমাজের খেটে খাওয়া দাস বা সেবক শ্রেণীর মানুষ নিজেকে মানুষ ভাবতে শেখে , তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় । পতিতপাবন হরিচাঁদ ঠাকুর আপন প্রজ্ঞা-জীবনবোধ থেকে উপলব্ধি করেছিলেন ব্রাহ্মণ্যবাদী কুহক জাল থেকে  জাতির প্রকৃত মুক্তি ঘটাতে পারে একমাত্র শিক্ষা । শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিতে আমরা তার উল্লেখ পাই –

“ অনুন্নত জাতি মাঝে শিক্ষা প্রসারিতে ।
আজ্ঞা করে হরিচাঁদ তারে বিধি মতে” ।।

প্রখর দূরদর্শী , জ্ঞানৈশ্বর্যের শুভ্র দীপ্তিতে প্রোজ্জ্বলমান মহামানব , মহান শিক্ষাবিদ গুরুচাঁদ ঠাকুরও জাতির উদ্দেশ্যে একই উপলব্ধি থেকেই ঘোষণা করেছিলেন –

“বিদ্যার অভাবে অন্ধ হয়ে সবে অন্ধকারে আছে পড়ে ।
জ্বেলে দাও আলো মোহ দূরে ফেল আঁধার ছুটিবে দূরে” ।।

আমরা জানি যে – শিক্ষা আনে চেতনা , চেতনা আনে বিপ্লব । সুতরাং শিক্ষা অর্জনের ফলে জাগবে চেতনা , আর চেতনা উদ্বুদ্ধ করবে বিপ্লব ঘটাতে । একেবারে ঠিক সেই চেতনার যায়গা থেকে আজ আমরা অনেকগুলো মানুষ সমবেত হয়েছি । এই চেতনাই আমাদের মনে করিয়ে   দিয়েছে –গুরুচাঁদ ঠাকুরের কথা –“জাতির উন্নতি লাগি হও সবে স্বার্থত্যাগী দিবারাত্রি চিন্তা কর ভাই” । মনে করিয়ে দিয়েছে –  বাবাসাহেব আম্বেদকরের সেই বিখ্যাত উক্তি – “Pay back to your society it is your moral duty”. সমাজের জন্য যে আমাকে সাধ্যমত শ্রম , বুদ্ধি , অর্থ বা সময় দান করতেই হবে । নয়তো সমাজের কাছে আমার ঋণের বোঝা পাহাড়প্রমাণ জমা হয়ে যাবে । সমাজের প্রতি এই দায়বদ্ধতার তাড়না থেকেই ‘বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চ’ ( সংক্ষেপে “চেতনা মঞ্চ”)এর জন্ম ।

“বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চে’র মূল লক্ষ্য মুলনিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানো । বর্তমান আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে জাতির শৌর্য-বীর্যময় প্রকৃত সত্য ইতিহাস তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় জাগানোই চেতনা মঞ্চের সপথ । হরি-গুরুচাঁদ প্রবর্তিত বৈদিকতা বর্জিত ধর্ম ‘মতুয়া ধর্ম’ যে নিছক ‘ধর্ম’ মাত্র নয় , তা যে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ নির্ভর বিশ্বমানবতাবাদের দর্শন , পৃথিবীর বুকে প্রকৃত মানব সম্পদ হয়ে ওঠার দিশা ; সেই বার্তা বিশ্বের দরবারে সম্যকভাবে তুলে ধরাই চেতনা মঞ্চের অন্যতম প্রয়াস । চেতনা মঞ্চের এই লক্ষ্যের বাস্তবায়নে সারা বছর ব্যাপি চলছে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে অবৈদিক মতুয়া দর্শন-ভিত্তিক আলোচনা সভা , বক্তৃতা শিক্ষা , সাহিত্য চর্চা , জাগরণী সভা ; সৃষ্টি করা হচ্ছে নতুন নতুন নাটক , শ্রুতি নাটক , কাব্য , কবিতা , প্রবন্ধ, গল্প , চেতনা সঙ্গীত , চেতনা নৃত্য প্রভৃতি । এ সবই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল করে তুলতে । এই সমস্ত চর্চার ফসল প্রতিনিয়ত যেমন Internet media তে প্রচার করা হয়, তেমনি স্থানীয় ভাবে বৃহদাকারে মতুয়া ধর্মানুসারী মানুষের দরবারে তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং চেতনা জাগাতে আয়োজন করা হয়  বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- ‘ মতুয়া দর্শন আলোচনা ও সাংকৃতিক অনুষ্ঠান’। এ ছাড়াও সারা বছর ব্যাপী নানার রকম সামাজিক অনুষ্ঠান , আলোচনা সভা , বন্দনা সভা ইত্যাদি ।

মতুয়া সমাজের সকল শিক্ষিত মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম জানুক মতুয়া ধর্ম একটি বিশ্বমানবতাবাদের ধর্ম । এ ধর্ম সত্য, প্রেম, পবিত্রতার ধর্ম ।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞান ও  যুক্তিবাদ নির্ভর ধর্ম । এ ধর্ম শেখায় সমস্ত প্রকার কুসংস্কারাচ্ছন্নতা দূর করতে; শেখায় – “জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা ,/ ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা” । এ ধর্ম শেখায় প্রশস্ত গার্হস্থ্য ধর্ম সর্ব ধর্ম সার , শেখায় নারীকে মর্যাদা দিতে , শেখায় নারী-পুরুষ সকলে শিক্ষা লাভ করে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে চেতনা সম্পন্ন হতে , শেখায় পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করতে । সর্বোপরি পৃথিবীর সকল মানুষ জানুক হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের সঠিক দর্শন । জানুক পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম মতুয়া ধর্ম ।সর্বোপরি মতুয়া ধর্মই শেখায় মানুষের একমাত্র ধর্ম মানবতা । এই প্রচারেই আমরা “বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চ” একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন রূপে  দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ । আমাদের  প্রচেষ্টায় আপনার সামিল হতে স্বাগত।