চেতনা কী ?

‘চেতনা’ শব্দের অর্থ ঘুমন্ত বা সুপ্ত বা মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে জাগ্রত অবস্থায় আসা । মানুষ পৃথিবীর সর্বোন্নত জীব হলেও অধিকাংশ মানুষই স্বীয়মস্তিষ্ক প্রযুক্ত সঠিক চিন্তার সঙ্গে অগ্রসর না হয়ে, গতানুগতিক চলতি ধারায় নিজের গা ভাসিয়ে দিয়ে আরাম বোধ করে । যা জড় বা অচেতন বস্তুর আচরণের সমতুল্য । সেই অচেতন ধর্মাচারী মানুষের মধ্যে যুক্তি, মানবতা , বিজ্ঞান নির্ভর কুসংস্কারমুক্ত জ্ঞান বা বোধের আগমন ঘটাকেই বলে ‘চেতনা’ ।

চেতনা মঞ্চ কী ?

সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়ে গতানুগতিক বিদ্যমান অদৃষ্টবাদ, ভাববাদ, শিশুসুলভ বিশ্বাস নির্ভর কাল্পনিক ভাবজগতের বাইরে এসে প্রত্যেক মানুষের আত্মোন্নতি ঘটানোর তাগিদে ; আত্মমর্যাদা ও অধিকার অর্জনের জন্য উৎকৃষ্ট রুচিশীল সাংস্কৃতিক বোধের মধ্য দিয়ে নিজেকে , নিজের পরিবারকে , নিজ সমাজকে , নিজ জাতিকে বিজ্ঞান মনস্ক,যুক্তিনির্ভর , কুসংস্কারমুক্ত জীবন গড়ার ও গড়ানোর অঙ্গীকারে গঠিত হল ‘চেতনা মঞ্চ’(বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চ) ।

যাঁর চেতনা আছে সে মনুষ্য সমাজে গ্রহণীয় । যাঁর চেতনার অভাব রয়েছে , যে মনুষ্য সমাজে যন্ত্রের মতো বাঁচে , পিছিয়ে থাকে । এই সচেতনতার অভাবের জন্য দায়ী এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী স্বার্থভোগীরা । তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে সকল প্রকার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে , ধর্মীয় মোহ-জালে অলীক কল্পনার নাগপাশে আবদ্ধ করে চূড়ান্ত রকমের নিঃস্ব ও চেতনাহীন করেছে ।

এই অচেতন মানুষকে চেতনা ফিরিয়ে দিতে , ধর্মীয় মোহ কাটিয়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মুক্তির পথ দেখাতে তৈরি হল ‘চেতনা মঞ্চ’। চেতনা সমৃদ্ধির জন্য যে মঞ্চ তাই হল ‘চেতনা মঞ্চ’ ।

চেতনা সদস্য কারা ?

“শোনা কথায় বিশ্বাস করিও না । বংশ পরম্পরায় প্রচলিত বলে বিশ্বাস করিও না । সর্বসাধারণে এটা বলেছে বলে এটা বিশ্বাস করিও না । ধর্ম-শাস্ত্র গ্রন্থে লিখিত আছে বলে বিশ্বাস করিও না । গুরুজন বা বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেছে বলে বিশ্বাস করিও না ।নিজের মতের সাথে মিল আছে বলে বিশ্বাস করিও না । দেখতে সত্য বলে মনে হয় – এ কারণে বিশ্বাস করিও না । এমনকি আমি বুদ্ধ বলছি বলে যে বিশ্বাস করতে হবে তা নয় । নিজের বিচার-বুদ্ধি-বিচক্ষণতা প্রয়োগ করে যদি দেখতে পাও – এগুলো যুক্তির সাথে মিলে এবং নিজের ও সকলের জন্য মঙ্গলজনক, কল্যানকর তাহলে গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করবে” । মহাজ্ঞানী গৌতম বুদ্ধের এই বানীকে পাথেয় করে যাঁরা প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস , ধর্মীয় কুসংস্কার দূরে ঠেলে ফেলে সমাজের অগগতিতে মানবতাবাদী ভাবনায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন ও এক নতুন সমাজ তথা দেশ গঠনের অঙ্গীকার করবেন । আর শুধু অঙ্গীকারই নয় নিজে চেতনা মঞ্চ নির্দেশিত পথ ও মত মেনে চলবেন তাঁরাই চেতনা সদস্য হতে পারবেন ।

চেতনা মঞ্চের লক্ষ্যঃ

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শোষণ বঞ্চনার প্রতিবাদী আন্দোলন কে নতুন আঙ্গিকে, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সচেতন করে সঠিক দিক-দিশা দেওয়া ।

যে মানুষ নিজের ইতিহাস জানে না , সে মৃতের সমান । আমরা পিছিয়ে রাখা ( SC, ST, OBC) মানুষের সঠিক ইতিহাস জেনে , শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর , মহান শিক্ষাবিদ গুরুচাঁদ ঠাকুর ও ডঃ বি আর আম্বেদকর সহ বহু মূল ভারতীয় মনীষীদের জীবন-দর্শনকে সামনে রেখে – সঙ্গীত , কবিতা , নৃত্য , নাটক , গীতি আলেখ্য ,আবৃতি আলেখ্য সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে নিজেদের জাগরিত করাই মূল লক্ষ্য ।

এছাড়া আমাদের মানুষের শৃংখলা – আচরণ –ন্যায়পরায়ণতা – কর্তব্যকে সামনে রেখে বক্তব্য , সেমিনার , প্রশিক্ষণ শিবির , বৈদিক ব্রাহ্মণ পুরোহিত বর্জিত সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান , পথসভা , বন্দনা সভা করে সমাজকে মুক্তির দিশা দিতে আমরা গঠন করেছি চেতনা মঞ্চ (CHETANA MANCHA ) ।

‘চেতনা সমৃদ্ধ’ মানুষ অনেকে রয়েছে । হয় সে তার মত প্রকাশ করতে পারে না , নয় তাকে করতে দেওয়া হয় না । সেই মুক্ত চিন্তক ‘চেতনা সমৃদ্ধ’ মানুষের সামনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশস্ত পথ খোলা হল । এই মাধ্যমে সকল ‘চেতনা সমৃদ্ধ’ মানুষ একত্রিত হয়ে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চেতনার বিকাশ ঘটানোর সম্ভাবনায় আমরা বিশ্বাসী ।

চেতনার বিকাশ ঘটলে মানুষ আর পশুর মতো বাঁচবে না , ধর্মীয় কুসংস্কারে আবদ্ধ থেকে নারী-পুরুষ বিভেদ , জাতি-বিদ্বেষ , ধর্মীয় হানাহানি মুক্ত সমাজ গড়তে পারে । সেই কুসংস্কার মুক্ত , বিজ্ঞান-চেতনায় সমৃদ্ধ সমাজ তথা দেশ গঠনই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ।

চেতনা মঞ্চের মহামানবঃ

ভারতবর্ষ ওইতিহ্যশালী দেশ । সেই দেশে নানা বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বর্তমান । এখানে যেমন রয়েছে ভিনভাষী মানুষের বাস , তেমনি রয়েছে নানা ভৌগলিক পরিবেশ । তাই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ঐতিহ্যময় সম্পদশালী ভারতবর্ষে বিভিন্ন সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন মনীষী তথা মহামানব । অনেকেই তাঁদের নিজস্ব অঞ্চলে নিজের মানুষের জনব কাজ করে গেছেন অবিরত । কিন্তু, এই সব যুক্তিবাদী কুসংস্কার বিরোধী মহান সংস্কারকদের বহিরাগত আর্যভাষী শাসকরা সব সময় রেখেছে অন্তরালে । প্রয়োজন মতো ইতিহাস গোপন করে আর্যভাষীদের করে নিয়েছে অথবা মুছে দিতে চেয়েছে । সেই সব প্রতিবাদী , সংস্কারমুখী , বাস্তবনিষ্ঠ , সমাজ হিতৈষী দার্শনিক তথা মহামানবদের ইতিহাস তুলে ধরতে এবং জানাতে বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে । যেমন – জন্মদিন পালন , জীবনী রচনা , মনীষী ক্যুইজ , মণীষী ভাষণ প্রভৃতি ।

পিছিয়ে রাখা সমাজের মুক্তির দিশারি মহামানবঃ-

  1. ১। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর
  2. ২। শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর
  3. ৩। শান্তি মাতা
  4. ৪। সত্যভামা মাতা
  5. ৫। ডঃ বি আর আম্বেদকর
  6. ৬। রমা বাঈ
  7. ৭। মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল
  8. ৮। মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে
  9. ৯। সাবিত্রী বাঈ ফুলে
  10. ১০। পেরিয়ার রামস্বামী
  11. ১১। বেগম রোকেয়া
  12. ১২। সাহু মহারাজ
  13. ১৩। বীরশা মুণ্ডা
  14. ১৪। মুকুন্দবিহারী মল্লিক
  15. ১৫। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মন

এবং অন্যান্য পিছিয়ে রাখা সমাজের মুক্তির দিশারি মহামানবগণ ।

চেতনা মঞ্চের রাজনৈতিক ভাবনাঃ

চেতনামঞ্চ সামগ্রিক ভাবে একটি অরাজনোইতিক মঞ্চ । চেতনা মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় । তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীতে সকলের সমান মর্যাদা , সমান অধিকারের কথা বলে । সাধারণ ভাবে চেতনা মঞ্চ ও চেতনা সদস্যরা মানবতাবাদী । সমাজের পিছিয়ে রাখা মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করেছেন যেমন , শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর , শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর , ডঃ বি আর আম্বেদকর , মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল , মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে , সাবিত্রী বাঈ ফুলে , পেরিয়ার রামস্বামী , বেগম রোকেয়া প্রমুখ মহান সমাজ সংস্কারকদের কথা বলে । সেই সঙ্গে রাজা রামমোহন রায় , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কাজী নজরুল ইসলাম, ডিরোজিওর মতো মানবতাবাদীদের কথা বলে । তবে , বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্যবাদ তথা মৌলবাদের মতো সমাজ আবর্জনাকে দূরে ঠেলে সংস্কারের গান গাইতে সদা ব্যস্ত ।

চেতনা মঞ্চের সাংস্কৃতিক আন্দোলনঃ

ভারতবর্ষের আদি বাসিন্দারা ছিল শৌর্য-বীর্য সম্পন্ন প্রবল প্রতাপশালী জাতি । এই প্রতাপশালী জাতিকে দেব-দেবতা , স্বর্গ-মর্ত্য , জন্মান্তরবাদ , পাপ-পূণ্য , প্রভৃতি ধর্মীয় মোহের ভয় দেখিয়ে ছলে বলে কৌশলে পদানত করে সারা ভারতবর্ষে তথা বঙ্গদেশেও বহিরাগত আর্যভাষী্রা ষড়যন্ত্র-বিস্তারী জাল বিস্তার করে । সেই জালে জড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের সকল আদি বাসিন্দারা । তারপর আর মূলস্রোতে ফিরে আসতে পারেনি এই প্রবল প্রতাপ সম্পন্ন ঐতিহ্যশালী জাতি । ধীরে ধীরে তারা হারিয়েছে নিজেদের অতীত ঐতিহ্য , অতীত শিল্প , অতীত সংস্কৃতি , অতীত যুক্তি বিজ্ঞান ও অতীত দর্শন ।

এই অতীত সংস্কৃতি-দর্শন-ইতিহাসকে ফিরিয়ে মূলনিবাসী মানুষকে চেতনা সমৃদ্ধ করতে গঠিত হয়েছে চেতনা মঞ্চ । যার ফলে প্রত্যেক মূলনিবাসী মানুষের গতানুগতিক ব্রাহ্মণমার্কা কাল্পনিক ব্যায়সাপেক্ষ আচার-অনুষ্ঠানকে বর্জন করে বিজ্ঞান সম্মত-স্বল্প ব্যায় সম্মত-যুক্তিনির্ভর আচার সর্বস্বতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে চেতনামঞ্চ । তাই আমরা প্রত্যেক মাসে শেষ রবিবারে বিভিন্ন তরের মানুষদের নিয়ে অপসংস্কৃতি মুক্ত সমাজ গড়তে ‘বন্দনা সভা’র আয়োজন করেছি । এমনকি স্বল্প ব্যায় সম্মত অবৈদিক ভাবনায় বিবাহ-শ্রদ্ধা-জন্মদিন ও অন্যান্য অনুষ্ঠান করে চলেছি । সর্বোপরি বক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ শিবির , আবৃত্তি-সঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র , সাহিত্য রচনা ও প্রকাশনা , নাট্যাভিনয়, নৃত্য প্রভৃতির মধ্য দিয়ে অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দানে ব্রতী হয়েছি ।

ইতিমধ্যে আমরা করতে পেরেছি–

  • দুটি চেতনা সংগীতের এ্যালবাম “প্রণমি তোমায়” ও “তোমার অমৃত বানী” প্রকাশ ।
  • চেতনা নাটক লেখা ও মঞ্চস্থ ।
  • “মহামানব হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুর ও পঞ্চরত্ন সমগ্র” , “আত্মোন্নতি” ও “চেতনা সঙ্গীতের স্বরলিপি”প্রভৃতি গ্রন্থ প্রকাশ ।
  • বিভিন্ন এলাকায় চেতনা নৃত্য-চেতনা সঙ্গীত সহযোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ।
  • অবৈদিক ভাবনায় বহু শ্রদ্ধানুষ্ঠান ও বিবাহানুষ্ঠান পরিচালনা ।
  • স্বাস্থ্য পরিক্ষা শিবির, চক্ষু পরিক্ষা শিবির ও রক্তদান শিবির ।

কী ভাবে চেতনা সমৃদ্ধ হওয়া যায়?

চেতনা সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য চেতনায় আগ্রহী হলেই চলে । মানুষ চেতনায় সমৃদ্ধ হতে চায় না , এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই । কিন্তু, সঠিক পরিবেশে , সঠিক ভাবনায় চেতনা দিতে ও নিতে হয় ।

গতানুগতিক কুসংস্কারকে দূরে ঠেলে আধুনিক যুগোপযোগী যুক্তিপূর্ণ মন হলেই চেতনা সমৃদ্ধ হওয়া যায় । কল্পনার নামে চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক অলীকতা চেতনামঞ্চ পছন্দ করে না । ভাববিলাসী মানুষ ভাববে । কিন্তু, এই ভাবনাকে (কল্পনা ) হাতিয়ার করে মানুষকে ঠকানো চলবে না । সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কর্ম-নিষ্ঠা-শ্রমকে মূল্য না দিয়ে বেধে দেওয়া কর্মকে গুরুত্ব দিতে চায় না চেতনা মঞ্চ । কাঁথা বুনন-ধান চাষ-কুলো বানানো কর্মের মতোই কম্প্যুটার , আদালত , ডাক্তারি বিদ্যা সমান গুরুত্ব । একজন ডাক্তার যেমন পাট ছাড়াতে বা কুলো বুনতে অপরিপক্ক , তেমনি একজন চাষী ও ডাক্তারী বিদ্যা শেখেনি বলে ওই কাজে অপরিপক্ক । তাই সকল কর্মকে গুরুত্ব দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলে চেতনা মঞ্চ ।

এখানে কী ধরনের লেখা প্রকাশিত হয় ?

বিজ্ঞান সম্মত – যুক্তিনির্ভর – সাম্যবাদী – অবৈদিক – ধর্মীয় গোঁড়ামি মুক্ত – প্রগতিশীল ভাবনার লেখা চাই । তবে সাহিত্য নির্ভর প্রায় সব ধরণের লেখাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে ।

বাৎসরিক অনুষ্ঠানাদিঃ-

‘চেতনামঞ্চ’ সমাজ জাগৃতির অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন । ‘চেতনা মঞ্চ’ ‘বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ-আম্বেদকর চেতনামঞ্চ’ নামক ট্রাস্টির মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ করে থাকে । প্রত্যেক বৎসরের Jan-April মাসের মধ্যে উপযুক্ত সময়ে তিন দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান করে থাকে । এই অনুষ্ঠান মূলত শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সমাজ সচেতনতা মূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । এই অনুষ্ঠান থেকে সারা বিশ্বকে বার্তা দেওয়া হয় – সাজসজ্জা – পরিচ্ছন্নতা – নিয়মানুবর্তিতা – পোষাক পরিচ্ছদ – সঙ্ঘবদ্ধতা – সৃষ্টিশীল গঠনমূলক রাজকীয় মৌলিক ভাবনার । যা ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মূল ইতিহাস ও দর্শন কেন্দ্রিক ।

শুধু এই অনুষ্ঠানেই শেষ নয় , এই দর্শন ভাবনাকে সচল রাখতে বগুলা শ্রীহরি শিশু নিকেতনের ‘হরিমন্দিরে’ মাসিক বদন্দনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে । যে বন্দনা সভা প্রতিনিয়ত প্রায় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে ।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় আমরা বাস্তবসম্মত মানবিক ধর্ম-দর্শনকে সামনে রেখে বিবাহ-শ্রদ্ধানুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি পরিচালনা করে থাকি ।

এর প্রভাবে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার অনুষ্ঠান আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুসরণে গড়ে উঠেছে । তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি আমাদের সাধ্যমতো ।

বন্দনা সভাঃ-

কোনও প্রকৃয়াকে সচল রাখতে হলে , তার ধারাবাহিকতা আবশ্যিক । তাই চেতনা মঞ্চ তাঁদের কর্মধারাকে সচল রাখার জন্য এই মাসিক বন্দনা সভার আয়োজন । প্রতি মাসের(ইংরাজি) শেষ রবিবার প্রত্যেক সদস্য-সদস্যা এবং তাঁদের সন্তানাদি, আত্মীয় স্বজন নিয়ে বন্দনা সভায় উপস্থিত হয়ে থাকে । বন্দনা সভায় মতুয়া ধর্ম-দর্শন , আম্বেদকর দর্শন আলোচনার মাধ্যমে সৃস্টিশীল মানসিকতা ও বিজ্ঞান ভাবনায় এবং যুক্তিবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে । প্রতি বন্দনা সভায় একজন নারী এবং পুরুষকে বাধ্যতামূলক মতুয়া দর্শন বা আম্বেদকর দর্শন আলোচনা করতে হয় ( পূর্বনির্ধারিত )। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিকে দিয়ে তাঁর জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা বক্তৃতা আকারে উপস্থাপনের ব্যাবস্থা করা হয় । নতুন প্রজন্মকে দিয়ে আবৃতি , নৃত্য , চেতনা সঙ্গীত , বক্ত্রৃতাদানের সুযোগ করে দেওয়া হয় । সভায় কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গড়ার শপথ নেওয়া হয় ।

সাংস্কৃতিক সামগ্রীঃ-

কোনও জাতি সংস্কৃতি ছাড়া অসম্পূর্ণ । যে জাতির সংস্কৃতি যত উন্নত , সেই জাতি কার্যক্ষেত্রে ততটাই সম্মানীয় । পৃথিবীর সমস্ত বিপ্লব আসার পূর্বে এসেছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লব । নানাভাবে বিপন্ন মানুষ তার অসহায় জীবনে বিশ্বাস ও ভরসার অবলম্বন পেয়েছে সংস্কৃতির আঙ্গিনায় । অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূরণের আয়োজন ও করেছে , কেননা সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি যুগপৎ তার নান্দনিক ও বিনোদনের চাহিদা মেটায় । আজন্ম লব্ধ ও ক্রমাগত লালনে সংবর্ধিত জ্ঞান-যুক্তি-বিশ্বাস দিয়ে গড়ে তোলে যে শৈল্পিক অবয়ব , সেটাই তার সত্ত্বার স্বরূপ । তাই সঠিক ইতিহাস ও দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে যুগোপযোগী সাংস্কৃতিক পরিবর্তন একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে । তাই সেই সাংস্কৃতিক উন্নতির প্রয়াস নিয়ে “বঙ্গীয় হরি-গুরুচাঁদ-আম্বেদকর চেতনা মঞ্চ” এগিয়ে চলেছে । আর সেই অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের উপর জোর দিয়েছে । একদিকে এই সাংস্কৃতিক উপাদান সৃষ্টি , সংগ্রহ ; অন্যদিকে তার বাস্তব উপস্থাপনা বর্তমানে চেতনা মঞ্চের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।