বিজ্ঞান সম্মত – যুক্তিনির্ভর – সাম্যবাদী – অবৈদিক – ধর্মীয় গোঁড়ামি মুক্ত – প্রগতিশীল ভাবনার লেখা চাই । তবে সাহিত্য নির্ভর প্রায় সব ধরণের লেখাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে ।

চেতনা মঞ্চের সাংস্কৃতিক আন্দোলনঃ

ভারতবর্ষের আদি বাসিন্দারা ছিল শৌর্য-বীর্য সম্পন্ন প্রবল প্রতাপশালী জাতি । এই প্রতাপশালী জাতিকে দেব-দেবতা , স্বর্গ-মর্ত্য , জন্মান্তরবাদ , পাপ-পূণ্য , প্রভৃতি ধর্মীয় মোহের ভয় দেখিয়ে ছলে বলে কৌশলে পদানত করে সারা ভারতবর্ষে তথা বঙ্গদেশেও বহিরাগত আর্যভাষী্রা ষড়যন্ত্র-বিস্তারী জাল বিস্তার করে । সেই জালে জড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের সকল আদি বাসিন্দারা । তারপর আর মূলস্রোতে ফিরে আসতে পারেনি এই প্রবল প্রতাপ সম্পন্ন ঐতিহ্যশালী জাতি । ধীরে ধীরে তারা হারিয়েছে নিজেদের অতীত ঐতিহ্য , অতীত শিল্প , অতীত সংস্কৃতি , অতীত যুক্তি বিজ্ঞান ও অতীত দর্শন ।

এই অতীত সংস্কৃতি-দর্শন-ইতিহাসকে ফিরিয়ে মূলনিবাসী মানুষকে চেতনা সমৃদ্ধ করতে গঠিত হয়েছে চেতনা মঞ্চ । যার ফলে প্রত্যেক মূলনিবাসী মানুষের গতানুগতিক ব্রাহ্মণমার্কা কাল্পনিক ব্যায়সাপেক্ষ আচার-অনুষ্ঠানকে বর্জন করে বিজ্ঞান সম্মত-স্বল্প ব্যায় সম্মত-যুক্তিনির্ভর আচার সর্বস্বতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে চেতনামঞ্চ । তাই আমরা প্রত্যেক মাসে শেষ রবিবারে বিভিন্ন তরের মানুষদের নিয়ে অপসংস্কৃতি মুক্ত সমাজ গড়তে ‘বন্দনা সভা’র আয়োজন করেছি । এমনকি স্বল্প ব্যায় সম্মত অবৈদিক ভাবনায় বিবাহ-শ্রদ্ধা-জন্মদিন ও অন্যান্য অনুষ্ঠান করে চলেছি । সর্বোপরি বক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ শিবির , আবৃত্তি-সঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র , সাহিত্য রচনা ও প্রকাশনা , নাট্যাভিনয়, নৃত্য প্রভৃতির মধ্য দিয়ে অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দানে ব্রতী হয়েছি ।